কিন্তু স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা একই বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়েও শিক্ষা লাভ করতে চান এবং এটাই স্বাভাবিক
স্নাতকোত্তর পর্যায়ে আসনসংখ্যা তো বেশি নয় যে বাইরের শিক্ষার্থীদের ধারণ করা যাবে
একটা সমাধান হতে পারে তাঁদের প্রস্তাব অনুযায়ী কিছু আসন মেধাবী ও যোগ্যতাসম্পন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা
এটা করতে হলে বর্তমানে যাঁরা স্নাতকোত্তর কোর্সে ভর্তি হচ্ছেন তাঁদের আসন ছাঁটাই করতে হবে
সাধারণত যাঁরা ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাস করেছেন তাঁরাই সেখানে ভর্তি হন
তাঁরা কিন্তু পরীক্ষিত মেধাবী তাঁরা ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পড়ার সুযোগ পেয়েছিলেন
কাজেই তাঁদের থেকে একটি আসনও ছাঁটাই করা যায় না
দ্বিতীয় সমাধান হতে পারে কিছু আসন বাড়ানো
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আসনসংখ্যা বাড়ানো সহজ নয় কারণ একজন শিক্ষার্থীর পেছনে প্রজাতন্ত্রের ব্যয় হয় অনেক অর্থ
এ বাবদ বাড়তি অর্থ পাওয়া সহজ নয়
লেখকদের প্রস্তাবিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে আসন বাড়ানো যায়
কিন্তু আমরা মনে করি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রধান যোগ্যতা হবে মেধা
কারও বাবার টাকা থাকতে পারে কিন্তু সেটা তাঁর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ভর্তির যোগ্যতা হতে পারে না
আমরা যদি আরও কিছু আসন বাড়াতে পারি তা-ও হবে পরীক্ষিত মেধাবীদের জন্য
লেখকেরা আইবিএর উদাহরণ দিয়েছেন
কিন্তু সেখানেও ভর্তির প্রধান যোগ্যতা মেধা টাকা নয়
আইবিএর ভর্তি পরীক্ষা অত্যন্ত কঠিন
হ্যাঁ একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা এখানে লাগে
এখানে অনেকে চাকরি জোগাড় করে তারপর এমবিএ করছেন
বরং আইবিএতে বেশি টাকার প্রয়োজন না হলেই ভালো হতো তাহলে দরিদ্র মেধাবীদের পড়ার খরচ জোগানোর জন্য চাকরি করতে হতো না বরং সম্পূর্ণ সময় ও শ্রম তাঁরা পড়াশোনার কাজেই ব্যয় করতে পারতেন
লেখকেরা শিক্ষানীতির ১০ নম্বর অনুচ্ছেদ উল্লেখ করেছেন উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার জন্য শিক্ষা খাতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ করতে হবে
সরকারি অনুদান ছাড়া এবং উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যয় নির্বাহের জন্য শিক্ষার্থীদের বেতন ব্যবহার করতে হবে এবং ব্যক্তিগত অনুদান সংগ্রহের চেষ্টা চালাতে হবে
উচ্চশিক্ষার বেসরকারি খাত-সংক্রান্ত ধারণার প্রভাবে এ কথাগুলো শিক্ষানীতিতে সংযোজিত হয়েছে বলে ধারণা করি এবং এর বিরোধিতা করি
কারণ এভাবে ধীরে ধীরে নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের মেধাবী ছেলেমেয়েরা আর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাবেন না
সামর্থ্যবান পরিবারগুলোর ছেলেমেয়েরা হবেন ব্যবস্থাপক বড় কর্তা আর দরিদ্র পরিবারগুলোর ছেলেমেয়েরা হবেন কেরানি! না এটা মেনে নেওয়া যায় না
অর্থবিত্তের জোরে উচ্চশিক্ষা লাভের সুযোগ বিত্তহীন মেধাবীদের উচ্চশিক্ষা লাভের সুযোগের পথে যেন প্রতিবন্ধক না হয়
জাতীয় পর্যায়ে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষালাভের সুযোগ হবে ধনী-নির্ধন সব মেধাবীর জন্য সমান
বিত্তবানদের জন্য তো বেসরকারি খাত রয়েছেই কেউ তো সেখানে কোনো বাধা সৃষ্টি করতে যাচ্ছে না
তাই আমরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিত্তের জোরে শিক্ষা লাভের সুযোগের দাবিকে সমর্থন করব না প্রতিবাদ করে যাব
মো মঈনউল হক সরকারি কর্মকর্তা ঢাকা

ক্ষুদ্রঋণ নতুন করে ভাবুন
বাংলাদেশ ক্ষুদ্রঋণের জন্মভূমি হিসেবে সারা বিশ্বে পরিচিত
ড মুহাম্মদ ইউনূসের উদ্ভাবিত গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম দারিদ্র্য বিমোচনে একটি আদর্শ মডেল হিসেবে এখন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অনুসৃত হচ্ছে
বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি অনেক ছোট-বড় সংস্থার মাধ্যমে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে
কিন্তু নিবিড় তদারকির অভাব ক্ষুদ্রঋণ দানকারী সংস্থাগুলোর অতিবাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সততার অভাব অদক্ষতা আর অবহেলার কারণে আমাদের দেশে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের মূল আবেদন প্রাসঙ্গিকতা ও উপযোগিতা ইতিমধ্যে অনেকখানি হ্রাস পেয়েছে
ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম এখন তেমন দৃশ্যমান কল্যাণ বয়ে আনতে পারছে না বা দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে কার্যকর হতে পারছে না
বরং এটা অনেকটা অতীতের গ্রামীণ সুদখোর মহাজনদের দাদন ব্যবসার আদলে পরিচালিত হচ্ছে
দাদনের টাকা নিয়ে সংশ্লিষ্ট গ্রাহক কী কাজে ব্যয় করছেন তা নিয়ে মহাজনদের মাথাব্যথা থাকে না তাঁদের দৃষ্টি থাকে মুনাফা করার দিকে কত বেশি টাকা সুদে-আসলে আদায় করা যায় সেই দিকে
এই সুযোগে তাঁরা দাদনগ্রহীতার বন্ধকি সম্পত্তিটুকু গ্রাস করার কৌশল করতেও দ্বিধান্বিত হন না
অবশ্য ক্ষুদ্রঋণের ক্ষেত্রে ঋণদানকারী সংস্থা মহাজনদের মতো ঋণগ্রহীতার সম্পত্তি বন্ধক রাখে না এবং সুদের হিসাবের ক্ষেত্রে সরল সুদ নির্ণয়ের পদ্ধতি অনুসরণ করে
কোনো কোনো সংস্থা সুদকে সুদ না বলে সার্ভিস চার্জ বলে
বর্তমানে আমাদের দেশে প্রচলিত অধিকাংশ ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমে নিয়োজিত কর্মীদের বেতন-ভাতাসহ যাবতীয় পরিচালনা ব্যয় বিতরণ করা ঋণের ওপর ধার্যকৃত সুদ/সার্ভিস চার্জের ওপর নির্ভরশীল
ফলে এটি একটি লাভজনক আর্থিক ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে পরিণত হয়েছে
বেশিসংখ্যক মানুষকে ঋণের আওতায় নিয়ে বেশি পরিমাণে ঋণ বিতরণ করা এবং সুদ আদায়ের মাধ্যমে সংস্থার তহবিল বাগানোই এখন এই কর্মসূচির মূল প্রবণতা
ক্ষুদ্রঋণ-ব্যবস্থার মূল চেতনা দারিদ্র্য বিমোচন
দরিদ্র মানুষ যাঁরা পুঁজির অভাবে কোনো রকম অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড করতে পারেন না তাঁদের পুঁজি জোগানো এই কর্মসূচির লক্ষ্য যেন তাঁরা সেই পুঁজির সদ্ব্যবহার করে দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠে আসতে পারেন
অর্থাৎ তাঁরা ক্ষুদ্রঋণ সংস্থার সদস্য হয়ে নিজেদের চাহিদা ও প্রয়োজনমতো ঋণ নেবেন এবং তা আয় বৃদ্ধিমূলক কাজে খাটিয়ে লাভবান হয়ে ঋণ পরিশোধ করবেন—এভাবে তাঁদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটবে দারিদ্র্য হ্রাস পাবে জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে
কিন্তু এখন ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমে এ ধারা প্রায় বিলুপ্ত হতে বসেছে
বর্তমানে প্রচলিত ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমে সংস্থার বার্ষিক মোট ঋণ বিতরণের পরিমাণ এবং আদায়ের হারকে সাফল্যের একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে গণ্য করার প্রবণতা লক্ষ করা যায়
যথাযথ তদারকির অভাব আন্তসংস্থার সমন্বয়হীনতা ইত্যাদি কারণে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমে এখন ব্যাপক অনিয়ম ঘটছে
ফলে দরিদ্র ঋণগ্রহীতাদের উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি হচ্ছে
একই ব্যক্তি এক সঙ্গে একাধিক সংস্থা থেকে বেশি বেশি পরিমাণ ঋণ গ্রহণ করে একসময় তা পরিশোধে সক্ষমতা হারাচ্ছে এবং দ্রুত ঋণভারে জর্জরিত ও দিশেহারা হয়ে পড়ছে
অবশেষে নিরুপায় হয়ে পরিবারসহ গ্রাম ছেড়ে শহরে গিয়ে ভাসমান জনগোষ্ঠীতে পরিণত হচ্ছে
এভাবে গ্রাম থেকে শহরমুখী মানুষের স্রোত বাড়ছে তারা দারিদ্র্যের দুষ্ট চক্র থেকে বেরোতে পারছে না
ফলে বিগত প্রায় তিন দশকব্যাপী আমাদের দেশে ক্ষুদ্রঋণের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ ঘটলেও দেশে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী মানুষের শতকরা হারের ক্ষেত্রে তেমন কোনো তারতম্য ঘটেনি
তাই ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের বর্তমান সীমাবদ্ধতা ও ত্রুটিবিচ্যুতি খতিয়ে দেখে এসব দূর করে দারিদ্র্য বিমোচনে কার্যকর হয়—এমন কার্যক্রম হাতে নেওয়ার লক্ষ্যে নতুন করে চিন্তা-ভাবনা করা প্রয়োজন
সুষ্ঠু ভূমিনীতি ও কৃষিনীতি গ্রহণ এবং তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং সুষ্ঠু বাজারজাতকরণের মাধ্যমে স্বল্প সময়ে বেশিসংখ্যক গ্রামীণ দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান তথা স্বাবলম্বীকরণ সম্ভব
শহীদুল আযম সাবেক কর্মকর্তা
বিআরডিবি মিরপুর ঢাকা

সংশোধনী
গতকাল সৈয়দ আবুল মকসুদের উপসম্পাদকীয়র প্রথম কলামের সপ্তম অনুচ্ছেদে আসন থেকে উঠে দাঁড়াননির স্থলে আসন থেকে উঠে দাঁড়ান এবং দ্বিতীয় কলামের অষ্টম অনুচ্ছেদে দেশ এক অবৈধ গ্রাম্যতার দিকের স্থলে দেশ এক সর্বৈব গ্রাম্যতার দিকে পড়তে হবে
অনিচ্ছাকৃত এ ভুলের জন্য আমরা দুঃখিত
—বি স
চারদিক
ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের বাড়ি
একপাশে হাসপাতালের বর্জ্য অন্যপাশে নালার পূতিগন্ধযুক্ত কালো পানি
এ দুইয়ের মাঝখানে চৌচালা টিনশেডের একটি বাড়ি
বাড়ির ঘরের ভেতরের প্রথমেই বৈঠকখানা
সেটা পেরিয়ে ভেতরে আরও একটি কক্ষ
তার লাগোয়া আরও ছোট-বড় তিনটি কক্ষ
একেবারেই জরাজীর্ণ
টিনের চালও ফুটো
আর সম্মুখভাগে রয়েছে চায়ের দোকান
শীত মৌসুম এলে এখানে পিঠা তৈরি হয়
শহরের বাসিন্দারা চাদর মুড়ি দিয়ে সেখানে যায়
আর বর্ষা মৌসুমে একটু বৃষ্টি হলেই সেখানে পানি ঢুকে পড়ে
শহরবাসীর কাছে বাড়িটি বেশ পরিচিত
বলছিলাম কুমিল্লা তথা উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও আইনজ্ঞ শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের বাড়ির কথা যিনি একাধারে ভাষা আন্দোলন এবং স্বাধীনতা-সংগ্রামে সামনে থেকে লড়াই করেছেন
সেই ভাষাসৈনিকের বাড়িটির আজ বেহাল দশা
জরাজীর্ণ ওই বাড়ি এখন কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে
কুমিল্লা শহরের ধর্মসাগরের পশ্চিম পাড়েই এর অবস্থান
প্রতিবছর বিশেষ কিছু দিনে সেখানে মোমবাতি জ্বলে
সংস্কৃতিকর্মীরা বাড়িটির সামনের সড়কে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন করেন
এরপর আর সেটি এগোয় না
দিনে দিনে সেই বাড়ি এখন বিলীন হওয়ার পথে
ওই দুর্দশা থেকে রক্ষা করার জন্য উদ্যোগ নিয়েছেন দেশের বিশিষ্টজনেরা
শনিবার ওই বাড়ি পরিদর্শন করতে যান সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ
তিনি এর চারদিক ঘুরে হতাশ হন
এরপর বৈঠকখানায় বসে আলাপচারিতায় মেতে ওঠেন
একপর্যায়ে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের নাতনি উন্নয়নকর্মী আরোমা দত্তকে মন্ত্রী প্রশ্ন করলেন এত দিন তুমি উদ্যোগ নিলে না
সঙ্গে থাকা নজরুল ইনস্টিটিউট ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বললেন তুই আরমা দত্ত ক্লিয়ার করে বল
কবি নজরুলের নাতনি খিলখিল কাজী বললেন কিছু করা উচিত
নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক রশীদ হায়দার বললেন রাজধানী ঢাকায় তাঁর নামে একটি সড়কের নামও হয়নি
বছর দুয়েক আগে আনিসুজ্জামান স্যার ঢাকা সিটি করপোরেশন মেয়র সাদেক হোসেন খোকার কাছে আবেদনও করেন
এর পরও দুই দফা মেয়রকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়
কিন্তু কোনো কাজ হয়নি
এবার আরমা দত্ত মুখ খুললেন
বললেন এখানে ১৫ শতক জায়গা রয়েছে
